লবণের গুজব কেটে গেছে কাটেনি দাম বাড়ার ভয়

সমগ্র বাংলা

বাজারে পণ্যের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার পেছনে সরবরাহ সংকটই একমাত্র কারণ নয়। অনেক সময় বড় ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করে গুজব। যার শিকার হতে হয় ভোক্তাদেরই। বিষয়টি ‍উড়িয়ে দিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরাও। তারাও বলছেন, বর্তমানে পেঁয়াজ ও চালের দাম বাড়ার পেছনের অন্যতম কারণ এই গুজব। বিশ্লেষকরা বলছেন, সঠিক তথ্যের অবাধ প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলেই গুজব সৃষ্টি হয়।

১৯ নভেম্বর, দুপুর সাড়ে ১২টা। রাজধানীর কারওয়ান বাজারের মুদির দোকানগুলোতে হঠাৎ শত শত মানুষের ভিড়। ‍উদ্দেশ্য লবণ কেনা। প্রায় সবার হাতে কয়েকটি করে লবণের প্যাকেট। এমনকি বস্তা ধরেও কিনছেন অনেকে। কিন্তু কেন?

ব্যবসায়ীরা জানালেন, ওইদিন মাত্র কয়েক ঘণ্টায় বিক্রি হয়েছে শত শত কেজি লবণ। যা অস্বাভাবিক। গুজবে কান দিয়ে লবণ কেনার কারণে বেড়ে গিয়েছিল লবণের দাম। ধরাও পড়েছেন বেশ কয়েকজন কারসাজিকারী। পেঁয়াজ ব্যবসায়ীরাও স্বীকার করছেন পণ্যটির এমন ইতিহাস সৃষ্টিকারী দামের জন্য দায়ী গুজব। একই কথা বলছেন চাল ব্যবসায়ীরাও।

বিশ্লেষকরা বলছেন, গুজব কেবল পণ্যের দাম বাড়ার পেছনে কাজ করে না টালমাটাল করে তুলতে পারে পুরো অর্থনীতিকে। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) এর সিনিয়র রিসোর্স ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, কেউ একজন গুজব ছড়ালো যার কোনো ভিত্তি নেই, তাহলে বাজার ব্যবস্থাপনা ঝুঁকির মধ্যে থাকবে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর মহাপরিচালক বলেন, গুজব প্রতিরোধে সোচ্চার তারা। প্রতিটি পণ্যের গায়ে খুচরা মূল্য লেখা থাকে। মূল্য ছাড়া কেউ এক টাকা বেশি নিতে পারবেন না।

গুজবে কান না দিয়ে যাচাই-বাছাই করে পণ্য কেনার ব্যাপারে ভোক্তাদের আরও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিলেন সংস্থাটির শীর্ষ কর্মকর্তা।